অপারেশন হিল সাইডের গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে যাওয়া ১৭ জঙ্গি কুলাউড়ার কর্মদায় জনতার হাতে পাকড়া হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ এর একটি কক্ষে থাকলেও এখন তারা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)এর নিয়ন্ত্রণে । সন্ধ্যায় কালো ও সাদা দুটি হাইয়েস গাড়ি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কুলাউড়ার কর্মদায় গহীন জঙ্গলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়ার পর আতঙ্ক ছিল এলাকাবাসীর মধ্য।এ কারণেই নজরদারি বেড়েছিল এলাকাবাসীর। আর এই নজরদারির জালে আটকা পড়েছে ১৭ জঙ্গি । ধারণা করা হচ্ছে, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের সেই ইমাম মাহমুদের কাফেলা নামে পরিচিত জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে পালিয়ে গেছিল তারা । তাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সোহেল রানা তানজিমও রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আব্দুল আহাদ মেন্দি নামের একজন পঙ্গুও রয়েছেন।স্থানীয়রা জানিয়েছেন এ পঙ্গু ব্যক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী জঙ্গি আস্তানার সবাই পরিচালিত হতো।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এবার নতুন জঙ্গি সংগঠন ইমাম মাহমুদে কাফেলার প্রধান মাহমুদ প১৭ জঙ্গির মধ্যে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে তাদেরকে পুলিশ পাহারায় আটক করে রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের টিম এখন কর্মদা ইউনিয়নে অবস্থান করছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মশাহিদ আহমদ জানান জঙ্গি আস্তানা কর্মদার জঙ্গলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রশাসনের জালে পরিচিতি পাওয়ার পর গেল কদিন থেকে আমরা নজরদার রাখছিলাম। সরব ছিলাম এলাকার মানুষ তাই একজনতার কবলে পাকরা হলো জঙ্গিরা।
চেয়ারম্যান মুহিবুল ইসলাম আজাদ জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার ইউনিয়নের আছকরাবাদ সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকা থেকে জঙ্গিরা কুলাউড়ার দিকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। এ সময় স্থানীয় সিএনজি ড্রাইভাররা তাদের সন্দেহ হলে এলাকাবাসীকে নিয়ে আটক করে। একই সঙ্গে এলাকায় টহলে থাকা পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে। পরে কয়েকটি সিএনজি যোগে তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ জঙ্গি-দলের প্রধান মাহমুদও থাকতে পারে।
সিএনজিচালক রবিউল্লাহ বলেন, আটক অপরিচিত লোক তাদের একজনকে কাঁধে বহন করে নিয়ে গাড়িতে আসে। আমার গাড়িতে তিনজন ওঠে। তারা আমাদের জানায় বনভোজনে এসেছে। তারা বলেছে মৌলভীবাজার যাবে। তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করে কথাবার্তা সন্দেহজনক হলে কৌশলে পরিষদে নিয়ে আসি।
সিএনজিচালক আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমার গাড়িতে ছয়জন অপরিচিত লোক ওঠেন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসক। আমিও তাদের নিয়ে পরিষদে আসি।
আরেক চালক জানান, আমার গাড়িতে ল্যাংড়া (পঙ্গু) একজন ব্যক্তি উঠেছিল তাদের সহযোগীদের নিয়ে। আমি তাদেরকে রবিরবাজার থেকে পরিষদের ভেতর নিয়ে আসি।
স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য মাহমুদা জানান এলাকার লোকজন বলাবলি করছে আটকের পর আরো জঙ্গিরা এলাকায় থাকতে পারে। স্থানীয়দের ধারণা প্রায় ৪০জন জঙ্গি ছিল কর্মদার জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।
এদিকে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলার আসামি বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার সুমনের স্ত্রী সানজিদা খাতুন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ‘জঙ্গি আস্তানা’য় আটক হয়েছিল
২০১৬ সালে সন্ত্রাস দমন আইনে সুমনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর পরই তিনি স্ত্রী সানজিদাকে নিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সানজিদা খাতুনের বাড়ি সারিয়াকান্দীর উপজেলার হাট শেরপুর ইউনিয়নের নিজ বলাইল গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল জলিল। পরে সানজিদার মা একই গ্রামের আব্দুল লতিফকে বিয়ে করেন। সুমন আব্দুল লতিফের ছেলে।
কুলাউড়ায় ‘অপারেশন হিলসাইটের’ পর পুলিশ এরই মধ্যে সুমনের বাবার সঙ্গে কথা বলেছে। সুমনের স্ত্রী সানজিদা কুলাউড়ায় জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে ডাক্তার তাজিমের সাথে সুমনও থাকতে পারে।
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া




















