জুম্মার নামাজের জন্য অভিযানের আগেইকয়েকজন সহ

পালিয়ে যাওয়া ডাক্তার তানজিম জঙ্গি আস্তানায় ‘সালমান’ নাম নিয়ে ছিলেন

  • প্রকাশের সময় : ১৩/০৮/২০২৩ ০৬:২৯:২১ AM

Share
85

মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর  এলাকার লোকজন বলতে ডাক্তারের বাপ। কুলাউড়ায় জঙ্গির আস্তানায় অভিযানের পর  এখন সিরাজগঞ্জ এর কৃষক হান্নানকে  এলাকার লোক বলে জঙ্গির বাপ। এমন অপমান কিছুতেই সইতে পারছেন না তিনি। কৃষক হয়ে ছেলেকে ডাক্তার বানিয়েছেন আর ডাক্তার হয়ে ছেলে  তিনি কে জঙ্গির ভব বানিয়েছে। এটা খুবই কষ্টদায়ক  তার ফাঁসি হলেও আমার দুঃখ নেই  মিডিয়া কর্মীদের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলার সময় এমনটাই বলেন ডাক্তার সোহেল তানজিম  রানার বাবা  কৃষক আব্দুল হান্নান। 


সিরাজগঞ্জের কৃষক আব্দুল হান্নানের ছেলে সেদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলসেদিন থেকেই গ্রামের লোকেরা তাকে ‘ডাক্তারের বাপ’ ডাকা শুরু করেছিলেন।  


ছেলে ডা. সোহেল তানজিম রানা পুরোপুরি চিকিৎসক হয়ে ওঠার বছরখানেক আগেই তার উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার খবর পেয়েছিলেন বাবা। তখন থেকেই ছিলেন শঙ্কিত। ছেলের গতিবিধি দেখে নজরও রাখতেন, খারাপ পথে গেলে 'হাত ভেঙে' দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।  কিন্তু লাভ হলো না। 

২০২২ সালে র‌্যাব যখন তাকে উগ্রবাদে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছিল তখনও বাবা হান্নানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল।

 তবে বাবা বলে কথা জামিনে বের করে   আনেন। চাকরি শুরু করেন, বিয়েও করেন। তখন আশায় ছিলেন ছেলে সব ছেড়ে দেবেন।

তবে শেষ রক্ষা যেন তার হল না। আগের মাসেই পুরনো শঙ্কা ফিরে আসে, যখন ২০ বছর বয়সী স্ত্রী মাইশা ইসলাম হাফসাকে নিয়ে নিখোঁজ হন ২৭ বছরের এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সোহেল তানজিম রানা।

শনিবার নবীন এ চিকিৎসকের স্ত্রীকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ।

ফোন দিয়াও পাচ্ছে না। তার বউয়ের ফোনও বন্ধ।’ এরপর আমি সেখানে গেলাম। দুই-তিনদিন এখানে-ওখানে খুঁইজা এনায়েতপুর থানায় জিডি করলাম।”

চিকিৎসক সোহেলের স্ত্রীর বড় ভাই ওমর ফারুক  জানান, কয়েক মাস আগে তার বোন হাফসার বিয়ে হয়েছিল চিকিৎসক ডা. সোহেলের সঙ্গে। গত ২৬ জুলাই হঠাৎ করে তারা পরিবার, কর্মস্থলের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর তানজীমের বাবা থানায় একটি জিডি করেন। পরে শনিবার তারা মাইশার গ্রেপ্তারের খবর জানতে পারেন।

ডাক্তারের গৃহত্যাগ’ বাবার নিখোঁজ  জিডি : বাবা হান্নানের দায়ের করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এনায়েতপুর থানার এএসআই আব্দুল আলিম ব বলেন, এক সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ২৬ জুলাই একটি অটোরিকশায় করে তানজিম স্ত্রীকে নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন।

বাবা হান্নান বলেন, “ওরা যেই বাসায় ভাড়া থাকতো আমি সেইখানে গেছিলাম। তার সামনের বাসার লোকজন ওদের সেদিন যেতে দেখেছে। কাপড়-চোপড়, হাড়ি-পাতিল-চুলা, কাঁথা-বালিশ-কম্বল সব নিয়ে দুটো অটোতে করে তারা ২৬ জুলাই বাসা থেকে বের হয়। পাশের বাসার গৃহকর্ত্রী তানজীমের স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তারা কোথায় যাচ্ছেন। জবাবে হাফসা বলেছিলেন, ‘তারা বাসা বদল করছেন।’ এরপর থেকে তাদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।”

তার পুত্রবধূ জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক হয়েছিলেন এবং সেখানে তার ছেলেও ছিল এমন তথ্য জানেন কী না জানতে চাইলে আব্দুল হান্নান বলেন, “আমি তো আমার ছেলের বউয়ের নামটা জানতাম শুধু হাফসা। তারে তো আমি চিনতেও পারব না। এখন আমার ছেলে জঙ্গি হইল কি না সেটা তো আমি জানি না। একটা ছেলেকে ডাক্তার বানাইতে একজন কৃষকের কতো কষ্ট করতে হয় সেটা যদি আপনারা বুঝতেন। আমার আর কিছু বলার নাই।”


সিলেট প্রেস / ১৩ আগস্ট ২০২৩/এফ কে


কমেন্ট বক্স
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া

প্রকাশ: ২০২৩-০৮-১৩ ০৬:২৯:২১