সিলেটে আবেগে রাঙা বিশ্বকাপ, জার্সিতে উচ্ছ্বাস

  • প্রকাশের সময় : ১১/০৬/২০২৬ ০৩:৩৮:৩৫ PM

Share
10

ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শুধু খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই; তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বাজারে, মানুষের পোশাকে এবং দৈনন্দিন জীবনে। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি যেন হয়ে উঠেছে আবেগের দৃশ্যমান প্রতীক। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতান ও ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, জার্সির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে ছোট-বড় সবাই কিনছেন আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি।  

বিশ্বকাপের আমেজে জার্সির চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। বাড়তি দামের পরও ক্রেতাদের আগ্রহ কমেনি; বরং প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই বেশি দামে জার্সি কিনছেন সমর্থকরা।

বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের প্রতি বাড়তি আকর্ষণই এর কারণ। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও জনপ্রিয়তায় কোনো অংশে কম নয়। অনেক ক্রেতা আবার দুই দলের জার্সিই কিনছেন, যা বাজারে বাড়তি গতি যোগ করেছে।
জেলা শহরের কোর্টরোড, সেন্ট্রালরোড ও পশ্চিমবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। অস্থায়ী দোকান থেকে শুরু করে বড় শোরুম সবখানেই চলছে সমানতালে বিক্রি। ছোট-বড় সবাই যেন মেতে উঠেছেন ফুটবল উৎসবে।

কাঁচামাল ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জার্সির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবুও ক্রেতাদের আগ্রহে কোনো ভাটা নেই। বর্তমানে সাধারণ জার্সি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা, উন্নত মানের জার্সি ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং শিশুদের জার্সি ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সেন্ট্রালরোডের জার্সি বিক্রেতা মো. রাশেদ বলেন, বিশ্বকাপ এলেই ব্যবসা বাড়ে, তবে এবার একটু আগেই চাহিদা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনার জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।

পশ্চিমবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সোহাগ আহমেদ বলেন, ‘জার্সির দাম কিছুটা বাড়লেও ক্রেতারা তাতে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ভালো মানের জার্সির দিকেই এখন বেশি ঝুঁকছেন। বিশেষ করে নাম-নাম্বার প্রিন্ট করা জার্সির চাহিদা বেশি।’

জার্সি বিক্রেতা পিন্টু দাশ বলেন, বিশ্বকাপ এলেই জার্সির চাহিদা বাড়ে, তবে এবার একটু বেশি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার জার্সিই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
কলেজছাত্র রিয়াদ আহমেদ বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই নতুন জার্সি কিনি।

শিক্ষার্থী মেহজাবিন আক্তার, আমি ব্রাজিলের সমর্থক। জার্সি পরলে আলাদা একটা ফিলিং আসে, তাই নিজের জন্য একটা কিনেছি।

চাকরিজীবী তানভীর হাসানের ভাষ্য, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার পরিকল্পনা আছে। আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক, তাই নিজের জন্য একটা কিনলাম। পাশাপাশি বন্ধুর জন্য ব্রাজিলের জার্সিও নিচ্ছি মজা করার জন্য।

জার্সির পাশাপাশি জাতীয় পতাকা, ফুটবল, বুটসহ অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রীর বিক্রিও বেড়েছে। এছাড়া জার্সিতে নিজের নাম ও পছন্দের নম্বর প্রিন্ট করার চাহিদাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বিশ্বকাপকে ঘিরে এই বাড়তি চাহিদা ব্যবসায়ীদের যেমন আশাবাদী করছে, তেমনি ফুটবলপ্রেমীদের মাঝেও তৈরি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
স্পোর্টস ডেস্ক :

স্পোর্টস ডেস্ক :

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-১১ ১৫:৩৮:৩৫