নগরীর লালদীঘির পাড় এলাকার হকার্স মার্কেটের ৩টি গোপন গুদামঘরে ভারতীয় পন্য চকলেট, কসমেটিক্স, জিরাসহ অবৈধ পণ্য মজুদ করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অদৃশ্য কারণে এই গুদামঘর গুলোতে প্রশাসনের কোনো অভিযান হয় না! যে কারণে চোরাকারবারিদের অবৈদ পণ্য রাখার নিরাপদ স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে এই গোপন গুদামঘর গুলো।
এসব গুদামঘরে অবৈধ পণ্য মজুদ করছেন লালদীঘির পাড়ের নতুন হকার্স মার্কেট ২নং গলির ১০নং দোকানের ব্যবসায়ী মাদানী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মোহাম্মদ শরীফ আহমদ। শরীফ জকিগঞ্জের মাত্রাগ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তাকে সহযোগীতা করছে তারই ছোটভাই তালহা এবং দোকানের কর্মচারি তুহিন। এই দোকানে রক্ষিত ভারতীয় পণ্য নিলামে ক্রয় করা হয়েছে বলে গোপনে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় কিছু যুবদল নেতা ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীদের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে এসকল গোপন গুদামঘরে নিয়ে আসা হচ্ছে ভারতীয় চকলেট, কসমেটিক, জিরাস সহ নানান অবৈধ পণ্য।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাদানী এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটার মো. শরীফ আহমদ নিজেকে সিলেট জেলা বিএনপির এক নেতার এবং সিলেট প্রশাসনের এক কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয়ে এসব করছেন।
তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বলে বেড়ান- প্রশাসন তার পকেটে! তার গোপন গোদামে কোনোদিনই অভিযান হবেনা।
শরীফের মাধ্যমেই সিলেটের বিভিন্ন দোকানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয় পন্য চকলেট এবং কসমেটিক্স বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে সরকার বিশাল এক রাজস্ব হারাচ্ছে।
কমদামে বিক্রির কারনে বৈধ ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়ছেন। অদৃশ্য কারনে এই ৩টি গোপন গুদামে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, কোনো সংস্থাই অভিযান দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, স্থানীয় কিছু যুবদল নেতা ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীদের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে এই গোপন গোদামঘর গুলোতে আসছে ভারতীয় চকলেট, কসমেটিকস, জিরা সহ নানন অবৈধ পণ্য। এদের ভয়ে মুখ খুলছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
নিজের দোকানের পণ্য রাখার জন্য গুদামগুলো ভাড়া নিয়েছেন মাদানী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মো. শরীফ আহমদ। তার এই ৩টি গোপন গুদামগুলো হল যথাক্রমে- প্রথম টি হকার্স মার্কেটের ১ম গেইটে ঢুকে ২য় তলার ফুলের দোকানের অপজিট সাইটের গুদামঘর, দ্বিতীয় টি একই লাইনে ২টি দোকান পড়ে আরেকটি ফুলের দোকানের পাশের গুদামঘর এবং তৃতীয় টি একই লাইনের একটু সামনে গিয়ে ময়লা ফেলার জায়গার সামনের গুদামঘর।
এই ৩টি গুদামঘর গুলোতে ভারতীয় চকলেট, কসমেটিকস সহ নানান অবৈধ পণ্য সংরক্ষিত। আর এই এসব গুদামঘর থেকে ভারতীয় চকলেট, কসমেটিকসসহ নানান পন্য সিলেটের বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস মাধ্যমে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
এছাড়াও হরিপুরের এবং জৈন্তার কয়েকজন চোরাকারবারিরা এই গোদামঘর গুলোতে তাদের ভারতীয় অবৈধ পণ্য রেখে মাদানী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মো. শরীফ আহমদের দোকানের রশিদ দিয়ে মালামাল বিক্রি করে তারই ভাই তালহা এবং দোকানের কর্মচারি তুহিন।
বিষয়টি জানতে মাদানী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মো. শরীফ আহমদ মুঠোফোনে কল করলে তা বন্ধ দেখায়।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একই মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই শরীফ আহমদ চোরাচালানের ব্যবসা করে আসছেন। যে কারনে তার এই গোদামঘর গুলোতে কোনো অভিযান হয়না।
বিষয়টি জানতে এসএমপির কোতোয়ালী থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকিরকে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















