যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রবাসী বাংলাদেশির পরিচয় চুরি (Identity Theft), স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ লক্ষাধিক টাকা) আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সিলেটের মো. আলী মশরুদ সোহাগের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সোহাগ সিলেটের শিবগঞ্জের দারা মিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন (মামলা নং: AP-260003046)।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সোহাগ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভুক্তভোগী প্রবাসীর কাছ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ধার নেন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে তা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে এবং বিশ্বাসের খাতিরে ভুক্তভোগী তাকে এই অর্থ প্রদান করেন। তবে টাকা ফেরত দেওয়ার সময় আসতেই সোহাগ টালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, সোহাগ কৌশলে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা ব্ল্যাঙ্ক চেক ও ব্যক্তিগত তথ্যের নাগাল পান। পরবর্তীতে তিনি ওই প্রবাসীর অজান্তেই তার স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সম্পত্তির দলিলাদি তৈরি করেন।
ভুক্তভোগীকে অন্ধকারে রেখে একটি আস্ত ভবন এবং তার যাবতীয় আইনি ও আর্থিক দায়বদ্ধতা প্রবাসীর নামে চাপিয়ে দেন সোহাগ। অভিযুক্ত ব্যক্তি পর্দার আড়ালে থেকে নিজের ইমেইল ব্যবহার করে ওই ব্যবসা পরিচালনা করলেও যাবতীয় ঋণের বোঝা ও বিল ভুক্তভোগীর নামে জমা করতে থাকেন। এতে প্রবাসী ওই ব্যক্তি বিশাল ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর অভিযোগ, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সোহাগ কমিউনিটিতে তার নামে নানা অপবাদ ছড়াচ্ছেন। এছাড়া মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে সশরীরে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে এই বিষয়ে জর্জিয়ার আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। গত বুধবার আদালতের প্রসেস সার্ভার অভিযুক্তের কাছে আইনি নোটিশ পৌছে দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে এই মামলার জবাব দাখিল করতে হবে। ভুক্তভোগী প্রবাসী এই জালিয়াতির সুষ্ঠু বিচার ও আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত পেতে প্রশাসনের জন্মরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মো. আলী মশাব্দ সোহাগ নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন এবং এলাকায় তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অপর ধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবাস ডেস্ক



















