দুই দশকের বেশি সময়েও সংস্কার হয়নি মৌলভীবাজারের যে সড়ক

  • প্রকাশের সময় : ০৬/০৫/২০২৬ ০৬:৩৮:০০ PM

Share
10

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক সড়ক  বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের। 

স্থানীয়রা জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর ইট, বালু, পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি  হয়েছে।

সড়কগুলো ব্যবহার করে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করে। কিন্তু এসব সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন এমনকি পথচারীদের জন্যও  চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। উপজেলার কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্য সঠিক সময়ে হাট-বাজারে নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। 

এর আগে এসব সড়ক মেরামতের দাবিতে বিগত সময়ে ভুক্তভোগী এলাকার লোকজন মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক লিখিত আবেদন করেন।

কিন্তু কার্যত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় সড়ক মেরামতে উদ্যোগ না নেওয়ায় মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি বেড়েছে। এই নাজুক পরিস্থিতির কারণে নিত্যদিনের যাতায়াতের সময় নষ্ট, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার লস্করপুর-লক্ষীপুর সড়ক, শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক,কটারকোনা-হাজীপুর ইউপি অফিস সড়ক, কুলাউড়া উপজেলা সদর-ফুলেরতল-নবাবগঞ্জ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কগুলোতে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় তা  মারণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা জানান, বেহাল সড়কগুলো পাঁচ বছর থেকে ২০ বছরের মধ্যে সংস্কার করা হয়নি। ফলে এসব সড়ক দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ অনেক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। তারা জানান, গাড়ির চালক ও  স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে অনেক সড়ক মেরামত করে সাময়িক চলাচলের উপযোগী করেছেন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে তারা পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিবছর সরকারকে তারা মোটা অংকের রাজস্ব দিচ্ছেন।

অথচ ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিমাসে একাধিকবার  তাদের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের উপার্জনের বেশিরভাগ টাকাই গাড়ি  মেরামত করতে চলে যায়। দ্রুত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানান তারা। 

কুলাউড়া এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সবচেয়ে বেশি ভাঙাচোরা সড়কের মধ্যে রয়েছে সদর-ফুলেরতল বাজার ভায়া নবাবগঞ্জ বাজার সড়ক, সদর ইউনিয়নের লস্করপুর-লক্ষীপুর সড়ক, শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক, জনতাবাজার-চৌধুরীবাজার সড়ক, রাউৎগাঁও ইউনিয়নে চৌধুরীবাজার-কালিটি সড়ক, চৌধুরী বাজার-কৌলা সড়ক, চৌধুরীবাজার-পশ্চিম মুকুন্দপুর সড়ক, চৌধুরীবাজার-ভবানীপুর-ঢুলিপাড়া সড়ক, পৃথিমপাশা ও কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব রবিরবাজার-কর্মধা ইউনিয়ন সড়ক, সদপাশা-ইটাহরি সড়ক, সদপাশা-মুরইছড়া সড়ক, রাজনগর বাজার-ছৈদল বাজার সড়ক, টিলাগাঁও ইউনিয়নের টিলাগাঁও-বাগৃহাল সড়ক, নওয়াবাজার-গুদামঘাট সড়ক, নওয়াবাজার-রবিরবাজার সড়ক, টিলাগাঁও-গন্ডারগড়- তাজপুর সড়ক, ভাটেরা ইউনিয়নের ভাটেরা-সিংহনাথ সড়ক, ভাটেরা মাইজগাঁও-নওয়াগাঁও সড়ক এবং কাদিপুর ইউনিয়নে মনসুর-আমতৈল সড়ক, 

একই অবস্থা ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শ্রীপুর-শেরপুর লিংক সড়ক, ব্রাহ্মণবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ রোড টু মিশন সড়ক, কুলাউড়া-মৌলভীবাজার রোড টু সিরাজনগর বাগান রোড, জয়চন্ডী ইউনিয়নের আছুরিঘাট-দিলদারপুর, জয়পাশা-কামারকান্দি সড়ক, হাজীপুর ইউনিয়নের মনু-তিলকপুর রোড টু ভুইগাঁও পোস্ট অফিস সড়ক, কটারকোনা বাজার-হাসিমপুর সড়ক, কটারকোনা বাজার-মনু স্টেশন ভায়া হাজীপুর ইউপি অফিস সড়ক, শরীফপুর ইউনিয়নে মনু-তিলকপুর ভায়া নছিরগঞ্জ বাজার সড়ক, নছিরগঞ্জ বাজার সিসি ঢালাই সড়ক এবং চাতলা চা বাগান ফ্যাক্টটি-নছিরগঞ্জ সড়ক।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, কুলাউড়ায় অনেক সড়ক সংস্কার করা খুবই জরুরি  হয়ে পড়েছে। বর্তমানে উপজেলায় ছয়টি সড়ক মেরামতের কাজ চলমান। চলতি বছরের জুন মাসের পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে সড়কগুলো মেরামত করা হবে।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স

প্রকাশ: ২০২৬-০৫-০৬ ১৮:৩৮:০০