ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনে মোট ৩১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন দুইজন নারী প্রার্থী। গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী রেজিনা নাসেরসহ চার আসনের ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে ২৬ জনকে বৈধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
মৌলভীবাজার জেলায় বৈধ ঘোষিত ২৬ প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হলেন সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী। তিনি মৌলভীবাজার-২ (কলাউড়া) সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরীর বাবা সাদ লুৎফুর রাজ্জাক চৌধুরী ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মা আমিনা বেগম চৌধুরী নারী নেত্রী ও গৃহিণী। বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লস্করপুর এলাকায়। কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করে সাদিয়া ভর্তি হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর ২০১১ সালে তিনি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সদস্য হিসেবে যুক্ত হন ছাত্ররাজনীতিতে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) নারীদের সংগঠন বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সার্বক্ষণিক রাজনীতির পাশাপাশি নিজের খরচ মেটানোর জন্য তিনি টিউশনি করেন।
মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র নারী সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বাসদ (মার্কসবাদী) দলের পক্ষ থেকে সারা দেশে ৩২ প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে ১০ জন হলেন নারী প্রার্থী।যা অন্যান্য সকল দল থেকে সংখ্যায় বেশি। আমরা গণঅভুত্থ্যান-পরবর্তী সময়ে একটা শোষণ, বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলছি।
জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলাকার উন্নয়নে কী করবেন জানতে চাইলে সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, সবার জন্য শিক্ষা, প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, মাদক-সন্ত্রাস-দুর্নীতি- সাম্প্রদায়িকতা ও নারী নির্যাতন বন্ধ, চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার ও ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণসহ শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া মানুষদের দাবি আদায় ইত্যাদি আমার কাজে প্রাধান্য পাবে। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিক, কৃষক, চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নারীদের সকল স্তরের জনগণের সমর্থন, পরামর্শ, সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















