সিলেটের বেকার যুবকদের অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার করেছে একটি চক্র। তারা সিলেটের যুবকদের বিদেশে পাঠানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগি। প্রতারক চক্রের সাথে অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রশনের কন্ট্রাক্ট রয়েছে, মাত্র দেড় মাসে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তারা সিলেটের বিদেশগামী যুবকদের ভ্রমন ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় ইমিগ্রশন কন্ট্রাক্ট করে সেখানে পাঠাবে বলে প্রচার করছে। এ সক্রান্ত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভ্রমন ভিসায় এরকম বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রচারণা এক ধরনের প্রতারনা বলে আখ্যায়িত করেছেন সিলেটের ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসায়ীরা।
সিলেটের শাহজালাল উপশহরস্থ সি ব্লকের ২নং রোডের ৪নং বাসার ২য় তলার মো. কামরান আহমদ পরিচালিত ডেস্টিনেশন ড্রিমার্স ট্রাভেল এন্ড এডুকেশন কনসালটেন্সি এজেন্সি নাকম প্রতিষ্ঠান এই প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, ওরা একটি চক্র। দেড় মাস সময়ের মধ্যে ১২ লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট করে সিলেটের যুবকদের কাছ থেকে একটি ব্যাংকের চেক নেন তারা। প্রসেস খরচ বাবদ নেন ১ লাখ টাকা। ফাইল কম্পিলিট না হলে সেই টাকাটাও ফেরত দেন না তারা। বরং তাদের চেক দেখিয়ে মামলার হুমকি দেন।
সম্প্রতি, ডেস্টিনেশন ড্রিমার্স ট্রাভেলের পরিচালক মারুফ তার প্রচারণার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরানোর জন্য সিলেটের কয়েকজন সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেছেন। এরই সূত্র ধরে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে সিলেটের গণমাধ্যম কর্মীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডেস্টিনেশন ড্রিমার্স ট্রাভেল এন্ড এডুকেশন কনসালটেন্সি এজেন্সির মুল হোতা রাহিমা খানম। যার প্রতারনার খবর দেশের সবারই জানা। বিদেশে পাঠানোর নামে রাহিমা এবং তার ভাই ও মায়ের বিরুদ্ধে সিলেটের জালালাবাদ থানায় ২টি, শাহপরাণ (র.) থানায় ২টি, বালাগঞ্জ থানায় ১টি ও নবীগঞ্জ থানায় ১টি মামলা রয়েছে। সিলেটে রাহিমার একটি বিশাল চক্র রয়েছে। এই চক্রের সাথে সিলেটের কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক এবং অ্যাডভোকেট জড়িত। এটা রাহিমা খানমের নতুন প্রতারণার ফাঁদ যা ডেস্টিনেশন ড্রিমার্স ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তিনি করছেন।
সূত্রে জানা যায়, ডেস্টিনেশন ড্রিমার্স ট্রাভেল এন্ড এডুকেশন কনসালটেন্সি এজেন্সির মালিক মো. কামরান আহমদ। সম্প্রতি সিলেটের ১৫ জন যুবকের ফাইল প্রসেস করার কথা বলে ১ লাখ টাকা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দুই মাস পার হবার পরও তারা এখনও বিদেশে যেতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানের মালিক তাদের টাকাও ফেরৎ দিতে পারছেন না। বরং রাহিমার লোকদের দিয়ে তাদের ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সময় নিচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের হুমকিও দিচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার ২ মাস পার হয়ে গেলেও তাদেরকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কোন পদক্ষেপ না নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক ভুয়া কোম্পানীর প্যাড দেখিয়ে তাদেরকে কোম্পানীর ৫% শতাংশ শেয়ারের অংশীদার করে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর আশ্বাস দিচ্ছেন। বিষয়টি বিদেশ যেতে ইচ্ছুক ওই যুবকদের সন্দেহ হওয়ায় তারা মিডিয়ার হাওলা হয়েছেন। এছাড়াও মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিষয়টি জানতে ডেস্টিনেশন ড্রিমার্স ট্রাভেল এন্ড এডুকেশন কনসালটেন্সি এজেন্সির পরিচালক কামরানকে একাধিকবার ০১৭৫৭ ৫৮৮×××৭ কল করলে তার মুঠোফোন বন্ধ দেখায়।
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ-এর সিলেট শাখার এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রাভেল এজেন্সি চালু করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হয়। এমন নিবন্ধন আছে সিলেটের প্রায় দুইশ’ প্রতিষ্ঠানের। তবে নিবন্ধন ছাড়াই আরও পাঁচশ’ ট্রাভেল এজেন্সি আছে সিলেটে। এরা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের মানুষদের প্রতারনা করছে। এছাড়াও অবৈধভাবে দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । তিনি ডেস্টিনেশন ড্রিমার্স ট্রাভেলসের এ বিষয়ে জানেন না। তাদের বিরুদ্ধে যদি কেউ অভিযোগ করে তিনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলবেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) শাহপরাণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রহিমা খানম নামক এক মহিলার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে। তিনি খোঁজ' নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















