মৌলভীবাজারে বন ছেড়ে লোকালয়ে প্রাণী, এক বছরে উদ্ধার ৩২৬

  • প্রকাশের সময় : ১০/০২/২০২৫ ০২:২৭:১৩ AM

Share
58

বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য ও পানি সংকটসহ নানা কারণে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সংরক্ষিত ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে আসছে বন্য প্রাণী। স্থানীয়দের হাতে জীবিত অবস্থায় ধরা পড়া এসব প্রাণীর একাংশ ফিরে যাচ্ছে বনে। আতঙ্কিত হয়ে কিছু প্রাণী মেরেও ফেলছে মানুষ। এ ছাড়াও ধরা পড়া পাখিরা কিছু মানুষের হাতে বন্দি কিংবা যাচ্ছে খাবারের পাতে।

২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন বিভাগ, বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন কর্মী এবং স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এনডেঞ্জার্ড ওয়াইল্ড লাইফ (সিউ) নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জীবিত ও মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে ৩২৬টি বন্য প্রাণী। এর মধ্যে জীবিত উদ্ধার করে বনাঞ্চলে ফিরেছে ২২২ এবং মৃত অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে ১০৪ বন্য প্রাণীকে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছেÑ বানর, লজ্জাবতী বানর, মেছো বিড়াল, চিতা বিড়াল, বনবিড়াল, বিভিন্ন ধরনের প্যাঁচা, মদনটাক, মুনিয়া পাখি, শকুন, অজগর, তক্ষক, শঙ্খিনী সাপ, গন্ধগোকুল, অজগর, রেড আইক্যাট স্নেক, ধূসর ফণীমনসা ইত্যাদি।

লাউয়াছড়া বনাঞ্চল এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করছেন এমন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ও প্রতিষ্ঠানের দাবি, বন বিভাগ উদ্ধারের যে তালিকা দেয়, এর বাইরেও অনেক বেশি বন্য প্রাণী খাদ্য ও পানীয় সংকটে বন ছেড়ে লোকালয়ে এসে ধরা এবং মারা পড়ছে মানুষের হাতে। মৃত বন্য প্রাণীদের বিষয়ে স্থানীয়রা ভয় থেকে বন বিভাগকে অবহিত করে না। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পাখি যায় মানুষের খাবার তালিকায়। বন বিভাগের তালিকায় এসব প্রাণী ও পাখির পরিসংখ্যান থাকে না।


এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশ ও সংবাদকর্মী সাজু মারচিয়াং বলেন, আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে বনাঞ্চলের যে ঘনত্ব ছিল বর্তমানে তার অর্ধেকও নেই। প্রতিটি বনেই ছিল পর্যাপ্ত ফলদবৃক্ষ, প্রাণীদের খাবারের সংকট হতো না। এক দশক আগেও লোকালয় থেকে বন্য প্রাণী উদ্ধারের খুব একটা ইতিহাস নেই। কিন্তু এখন প্রায় প্রতিদিনই লোকালয়ে বন্য প্রাণী উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়াও শুকনো মৌসুমে বনাঞ্চলের ভেতর ও পাশের খাল এবং ছড়াগুলোয় পর্যাপ্ত পানি থাকত। এখন শুকনো মৌসুমে বনাঞ্চলে পানির হাহাকার থাকে। এ বিষয়ে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘গত কয়েক দশকে দেশের বনাঞ্চলের আয়তন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। একই সঙ্গে কমেছে প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য ও পানীয় জলের উৎস। বাসস্থান হারিয়ে বা খাবারের সন্ধানে প্রায়ই বন্য প্রাণী লোকালয়ে আসছে। অনেক সময় সড়কে বা মানুষের হাতে মারা যাচ্ছে কিছু প্রাণী। গ্রামে যখন বন্য প্রাণী মানুষের চোখে পড়ছে তখন আতঙ্কিত হয়ে তারা আমাদের বা বন বিভাগকে জানায়। খবর পেলে দ্রুত বন্য প্রাণীগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের হাতে হস্তান্তর করি। গত বছর বিভিন্ন স্থানের লোকালয় থেকে বেশ কিছু প্রাণী উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে দিয়েছি। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জামিল মোহাম্মদ খান বলেন, বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয়ে আসা বন্য প্রাণীদের উদ্ধারে আমরা তৎপর রয়েছি। এ ছাড়াও কয়েকটি সংগঠন ও সংস্থা বন্য প্রাণী উদ্ধারে আমাদের সহায়তা করে। ২০২৪ সালে বন ছেড়ে লোকালয়ে আসা মোট ৩২৬টি বন্য প্রাণী উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ২২২টি বন্য প্রাণী জীবিত আর ১০৪টি বন্য প্রাণী মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা বন্য প্রাণীগুলোকে লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে অবমুক্ত এবং মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা প্রাণীগুলোতে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। বন্য প্রাণী রক্ষায় জেলার সংরক্ষিত ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লাউয়াছড়াসহ অন্য বনগুলোয় বিপুলসংখ্যক ফলদ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। প্রাণীদের পানীয়জলের সমস্যা সমাধানেও কাজ করা হচ্ছে। শুধু বন্য প্রাণী উদ্ধারই নয় সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে আমরা কাজ করছি।


সিলেট প্রেস / ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৫-০২-১০ ০২:২৭:১৩