সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতি আর অপকর্মে ‘নায়ক’ ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার এখনও বহাল তবিয়তে। এতোদিন দুজন আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও সরকারের পট পরিবর্তসের সাথে সাথে তারাও খোলস বদলে ব্যস্থ সময় পার করছেন। বিগত সরকারের আমলে দুই জনে দুই হাতে টাকা কামিয়ে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। এজন্য বারবারই তারা দু’জন বিতর্কিত হয়েছেন। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে হাসপাতালে সিন্ডিকেট গড়ে টাকা লুটে যাচ্ছেন।
সিলেট নগরীতে আছে তাদের একাধিক বাড়ি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাদের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের কাছে আবেদন করেছিলেন হাসপাতালের এক কর্মচারী। তার এই অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদকের তরফ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল ক্লিনিক দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকের কার্যালয় থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়। ওসমানীর পরিচালক এই চিঠি পাওয়ার পর হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএম আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আস আদ দীন মাহমুদ ও সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. জলিল কায়সার খোকন।
গত ৭ই মার্চ এক আদেশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটিকে দায়িত্ব দেয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের পর গত সপ্তাহে পরিচালকের কাছে রিপোর্ট জমা দেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. এসএম আসাদুজ্জামান জানিয়ে ছিলেন ‘আমাদের উপর যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সেটি আমরা পালন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। নানা গুঞ্জন ছিল সিলেটের রওশন হাবিবকে ঘিরে। তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার। তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ কর্মচারীরা। এসব অভিযোগের একটি হচ্ছে, ‘নারী কেলেঙ্কারি’। এতদিন হাওয়ায় ভাসছিল নানা গুঞ্জন। অবশেষে রওশন হাবিবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছেন এক নারী কর্মচারী। রওশন হাবিব ওই নারীকে কু-প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হন তিনি। রওশন হাবিবের বিরুদ্ধে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন। রওশন হাবিব প্রায় ১০-১২ বছর ধরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। তিনি ওয়ার্ড মাস্টার হিসেবে কর্মরত। ওসমানী হাসপাতালের সকল কর্মচারীর কর্মস্থল বণ্টন সহ নানা কাজ তার। এ কারণে তিনি একতরফা আধিপত্য রাখেন কর্মচারীদের ওপর। সিলেটের কোতোয়ালি থানায় গত ৯ ফেব্রুয়ারী রুপা খানম নামে ঐ কর্মচারী সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে তিনি অভিযুক্ত করেছেন রওশন হাবিবকে। জিডিতে রুপা নিজেকে বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসেস (প্রা.) লিমিটেডের হয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসি এটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানান।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী একটি হোস্টেলে বসবাস করেন তিনি। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন তার ডিউটি প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টায় শেষ হলেও তাকে রাত ১০টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়। এ সময় তার সকল সহকর্মী চলে যান নিজেদের বাসাবাড়িতে। কিন্তু রুপাকে হাবিবের সঙ্গে আলাপে সময় দিতে হয়। এক পর্যায়ে ৬ই ফেব্রুয়ারি রুপাকে কু-প্রস্তাব দেন ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব। তার এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভয়ভীতি ছাড়াও চাকরি থেকে বিদায় করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। জিডিতে রুপা নিজের নিরাপত্তা দাবি করেন। এদিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জিডি গ্রহণের পর বিষয়টির তদন্তে নামলেও সেই সময় আওয়ামী লীগের এক নেতার মাধ্যমে ধামাচাপা দিয়ে দেয় হাসপাতালের বরপুত্র ছাদেক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব প্রায় এক যুগ ধরে ওসমানীতে কর্মরত রয়েছেন। এই এক যুগের শাসনে তিনি ওসমানী হাসপাতালকে টাকা আয়ের খনি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এছাড়া কর্মরত নারীদের কু-প্রস্তাবসহ নানা কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রওশন হাবিব ও জব্বারের নানা কথা রটছে কর্মচারীদের মুখে মুখে। রওশন হাবিব আর জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর। এসব অভিযোগের মধ্য রয়েছে- ক্যাজুয়েলিটি বিভাগসহ দু’টি ওটির ওষুধসহ সরঞ্জাম বিক্রি, জরুরি বিভাগের ট্রলি বাণিজ্য, লেবারওয়ার্ডে নিজের বলয়ের মাসি নিয়োগ ও ওষুধ বাণিজ্য, টাকার বিনিময়ে ওটিতে কর্মচারী বদলি, প্রতি ওয়ার্ড থেকে প্রতি রোস্টারে নির্ধারিত টাকা আদায়, হাসপাতালের কোয়ার্টার ব্যবহার না করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ধোপা কোয়ার্টারে বসবাস, মহিলা কর্মচারীদের হয়রানি ও আউটসোর্সিং কোম্পানিতে কর্মচারী নিয়োগে টাকা আদায়। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগের কারণেই ওসমানী হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। হাসপাতালের কয়েকজন পুরনো কর্মচারী জানিয়েছেন, ওসমানী হাসপাতালের মহিলা কর্মচারীরা সব সময় তার কারণেই তটস্থ থাকেন। কখন তার নজর কার ওপর পড়ে সেটি কেউ জানেন না। যখন যার ওপর নজর পড়ে তখন তাকে ডেকে নেয়। এতে অনেকেই চাকরি হারানো ও মান-সম্মানের ভয়ে প্রতিবাদ করেন না। ২০১১ সালের দিকে তেমনটিই ঘটেছিল হাসপাতালে। ওই সময় ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব এক মহিলাকে নিয়ে স্টাফ কেবিনের ভেতরেই ছিলেন। খবরটি যায় তার স্ত্রীর কাছে। তার স্ত্রীও ছিলেন ওই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স। তিনি এসে রওশন হাবিবের কুকীর্তি ধরে ফেলেন।
এ নিয়ে পারিবারিকভাবে অনেক ঝামেলা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে ঘটনাটি। এই ঘটনার পর স্ত্রী রওশন হাবিবকে ডিভোর্স দেন। এখন একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রওশন ওসমানী মেডিকেলে ধোপা কোয়ার্টারে বসবাস করেন। কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ধোপা কোয়ার্টারে রওশন হাবিব অবৈধভাবে বসবাস করছেন। তার বসবাস করার কথা স্টাফ কোয়ার্টারে। কিন্তু নিজের প্রয়োজনেই তিনি স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস না করে ধোপা কোয়ার্টারেই থাকছেন। আর ওই কোয়ার্টারই হচ্ছে তার অপকর্মের মূল আস্তানা। প্রায় সময় নারী কর্মচারীরা ওই কোয়ার্টারে যাতায়াত করেন। টাকা লেনদেনের সব হিসাব-নিকাশও হয় ওখানে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিটের পাশে পানের দোকান বসিয়ে দিয়েছেন ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব। তিনি প্রতি সপ্তাহে ওই দোকান থেকে ভাড়া হিসেবে টাকা নেন। অথচ ক্যান্সার ইউনিটটি স্পর্শকাতর ইউনিট। এই ইউনিটের পাশে পান সিগারেটের দোকান বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি। হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। ওই বিভাগে প্রতিদিনই আসেন এক্সিডেন্ট, সংঘর্ষ নানা আহত রোগীরা। তাদের অধিকাংশ রোগীরই তাৎক্ষণিক জরুরি অপারেশনের প্রয়োজন হয়। ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের নিজের পছন্দের লোককে সব সময় ডিউটি দিয়ে থাকেন। অপ্রয়োজনী ওষুধগুলো রোগীকে ফেরত না দিয়ে তার লোকজন বিক্রি করে দেয়। আর এতে লভ্যাংশের একটি বড় অংশ পান রওশন। ওসমানীর দু’টি ওটি হচ্ছে রওশন হাবিবের আয়ের অন্যতম উৎস। দু’ভাবে তিনি রোস্টার ভিত্তিতে আয় করে থাকেন। যাদের নিয়ে ওই ওয়ার্ডে ডিউটিতে দেন তারা প্রতি রোস্টারে (১০ দিন পর) ওয়ার্ড মাস্টারকে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়। আর অপারেশনের পর অপ্রয়োজনী ওষুধ বিক্রির টাকার বড় অংশ পান তারা। এ কারণে বাইরের অনেক ফার্মেসির মালিক হাসপাতালের ওটিতে থাকা রোগীর জন্য ওষুধ বিক্রি করতে চান না।
হাসপাতাল এলাকার এক ফার্মেসির মালিক জানিয়েছেন, অপারেশনের পর ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিবের লোকজন বেশির ভাগ ওষুধ ফেরত নিয়ে আসে। এবং ওষুধের বিনিময়ে টাকা নিয়ে নেয়। ফলে রোগীদের কথা চিন্তা করে তারা অনেকেই ওটিতে অপারেশন সরঞ্জাম ও ওষুধ বিক্রি করতে চান না। ওসমানী হাসপাতালে ওয়ার্ড সংখ্যা ২৭টি। সব ওয়ার্ডে জনবল বণ্টনের দায়িত্ব ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিবের। তিনি জনবল বণ্টনের নামে কর্মচারীদের কাছে ওয়ার্ড বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে রোস্টার বা প্রতি ১০ দিন পর পর তাকে নির্ধারিত হারে টাকা দিতে হয়। যেসব কর্মচারীরা টাকা কম দেন কিংবা দেন না তাদেরকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। এ কারণে ওসমানী হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড যেনো কর্মচারীদের আয়ের উৎস। ওয়ার্ডে বেড পেতে লাগে টাকা। অনেক সময় বেড খালি থাকলেও রোগীরা মাটির বিছানায় থেকে সেবা নিয়ে থাকেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রোগী কিংবা তার স্বজনকে নাজেহাল করেন। হাসপাতালের ব্রাদার সাদেক সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগসাজোশ ছিল রওশন ও জব্বারের। সাদেক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের দু’জনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। রওশন ও জব্বার হাসপাতালের ওয়ার্ডে নিয়মিত ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ডিউটি বণ্টন করেন। ওখানে তারা প্রতি মাসে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা প্রতি কর্মচারীর কাছ থেকে নিয়ে থাকে। প্রতি জুন মাসে চাকরি নবায়নের নামে প্রায় তিনশ’ কর্মচারীর কাছ থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। আউট সোর্সিংয়ে থাকা এসব কর্মচারী টাকা না দিলে তাদের চাকরিচ্যুতসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। আর আউট সোর্সিংয়ে ৩০০ লোক নেয়ার কথা থাকলেও ২০০ জন নিয়োগ দিয়ে বাকি ১০০ জনের বেতন আত্মসাৎ করা হয়। হাসপাতালের কর্মচারীদের জন্য ৫টি ভবনে মোট ৬০টি বাসা ও বিশাল খালি জায়গা রয়েছে। অধিকাংশ বাসাই খালি থাকায় রওশন ও জব্বার ভাড়া দিয়ে টাকা লুটে নিচ্ছে। আবার খালি প্লট ১ থেকে ৪ লাখ হারে বিক্রি করছে। ঘরসহ সরকারি কোয়ার্টারের ভূমি বিক্রি করা হচ্ছে ১০ লাখ টাকায়। আর এসব টাকা যাচ্ছে রওশন ও জব্বারের পকেটে। হাসপাতালের প্যথলজি বিভাগে কর্মরত অফিস সহায়ক আলাউদ্দিন সভাপতি আব্দুল জব্বারকে ম্যানেজ করে দুটি কোয়ার্টার দখলে রেখেছে। এতে বাসা ভাড়া দিয়ে রওশন ও জব্বারের মাসে আয় কয়েক লাখ টাকা। সিলেট সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও কোয়ার্টারে ১৫-১৬টি বাসা ভাড়া দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আর ভাড়ার টাকা তুলতে তাদের নিজস্ব বাহিনীও রয়েছে। অভিযোগে ওই কর্মচারী জানিয়েছেন, ওসমানী হাসপাতালে আগত রোগীদের দালাল চক্রের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো, হাসপাতালে ভর্তি, বিছানা, ওষুধ প্রদান, দ্রæত অপারেশন করিয়ে দেয়ার জন্য কন্ট্রাকে কাজ করে রওশন ও জব্বার। ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিবের বিরুদ্ধে অসংখ্য নারী কর্মীদের শ্লীলতাহানী, যৌন হয়রানি, জোরপূর্বক বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি উদ্যোগও নিয়েছিলেন অনেকেই।
অভিযোগে ওই কর্মচারী আরও জানান, ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব ও কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদ বানিয়েছেন। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আব্দুল জব্বারের নামে নগরের কানিশাইল এলাকায় তার ও নিজের নামে ও সোনাতলা এলাকায় মেয়ের নামে বাড়ি রয়েছে। আর ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব নগরের বালুচরে একটি বাসা নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া রওশন হাবিবের নামে তার নিজ বাড়ি মাগুরা জেলায় ১০ তলা ভবন রয়েছে। তার স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্যালিকার নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। তার শ্যালিকার নামে তিনটি হাইয়েস গাড়ি ক্রয় করে দিয়েছে। গাড়িগুলোর নাম্বার হচ্ছে, ঢাকা মেট্রো-৭৫০২৭৬, ১৯৬৩১০, ১১০৫৬০। সভাপতি আব্দুল জব্বারকে হাসপাতালের মালামাল চুরির জন্য বিগত ২১/১/২০২১ ইং তারিখে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার হিমাংশু লাল রায় সাময়িক চাকরীচ্যুত করে ছিলেন। সে সময় জব্বার হাসপাতালের ৬টি বারান্ধার গ্রিল, ছোট বড় ১৯ প্যাকেট টাইলস প্যাকেট, পিপিআই আড়াই বস্তা,সহ আরো দুই কার্টুন পিপিই, কাচের জানালা একটি, এক কার্টুন মাস্ক ও সংগঠনের ব্যবহারের জন্য ক্রয়কৃত আসবাব পত্র চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির ঘটনাটি ২০/১/২১ ইং ধরা পড়লে ২১/১/২০২১ ইং জব্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে পাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যাহার স্মারক নং ওমকেহাসি/ই-২/২০২১ (৩৮৭/১(৪)। যাহা পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া শর্তে আব্দুল জব্বার আর জীবনে চুরি করবেনা মর্মে অঙ্গিকার করলে তিরস্কার করে সতর্ক করে তাকে চুরির দায় গতে ৩১/১/২১ ইং তারিখে অব্যাহতি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের বড় স্যাররা এসব খোঁজ খবর রাখেন না। রওশন হাবিব আর ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের সভাপতি আব্দুল জব্বার মিলে দীর্ঘদিন থেকে সকল শ্রেণীর কর্মচারীদের জিম্মি করে শোষর করে নিচ্ছেন। চাকরি হারানো ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলার সাহস পায়না।
(এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত আদালতে দায়ের করা দুদুকের করা একটি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ঢাকা অফিসে থেকে সিলেট দুদক থেকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ)
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















