পুনর্গঠনের পথে সিলেট বিএনপি, আলোচনায় নতুন মুখ

  • প্রকাশের সময় : ০৬/০৬/২০২৬ ০৫:৩৩:৪৯ PM

Share
1

দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে সংগঠনকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশজুড়ে দলীয় ইউনিটগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা ও তৎপরতা বেড়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার পরিচালনা ও দলীয় কর্মকাণ্ডকে পৃথক রাখার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। এ কারণে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা নেতাদের সাংগঠনিক পদে না রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ও দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত ইউনিটগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে।

সিলেট জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদও শেষের দিকে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে বিভাগজুড়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করা এবং আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় অনেক এলাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদ নিয়ে বিভিন্ন ইউনিটে আলোচনা শুরু হয়েছে। পদপ্রত্যাশী নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়েও শুরু হয়েছে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ।

সিলেট জেলা বিএনপির সম্ভাব্য আহ্বায়ক হিসেবে বর্তমান সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা নেতাদের বাইরে রাখা হলে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন নেতারা। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক কিংবা জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সল আহমদ চৌধুরীর নামও আলোচনায় এসেছে।

জেলা বিএনপির সম্ভাব্য সদস্যসচিব হিসেবে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে- দলীয় উপদেষ্টা কামরুল হাসান চৌধুরী শাহিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে কয়েকজনকে এগিয়ে রাখছেন তাদের সমর্থকরা।

অন্যদিকে, মহানগর বিএনপির সম্ভাব্য আহ্বায়ক পদে সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে।

মহানগর বিএনপির সম্ভাব্য সদস্যসচিব হিসেবে ফরহাদ চৌধুরী শামীম, নজিবুর রহমান নজিব, ইশতিয়াক সিদ্দিকী, মাহবুবুল হক চৌধুরী এবং সৈয়দ সাফেক মাহবুবের নাম দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সিলেটে নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তারা এবার মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছেন। কেন্দ্রও তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে অতীতের মতো শুধু পরিচিত মুখ নয়, নতুন ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্বও সামনে আসতে পারে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এটি নিয়ে এখন কোনো আলোচনা হচ্ছে না। সবেমাত্র জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়েছে। তাছাড়া, সব সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নেবে, আমাদের এ ব্যাপারে এখনো কোন আলোচনা শুরু হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেছেন, “কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব জেলায় আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে, সেখানে দ্রুত সম্মেলন ও কাউন্সিল আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-০৬ ১৭:৩৩:৪৯