মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে শিক্ষক ও ছাত্রীর বহুল আলোচিত বিয়ের ঘটনায় এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক কায়সারুজ্জামানের প্রথম স্ত্রী। মহতোসিন আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওই শিক্ষকের এই নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকাণ্ডে তাঁদের দীর্ঘ ১৩ বছরের সাজানো দাম্পত্য জীবন এখন পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে চরম শোরগোল ফেলে দেওয়া এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, মানসিক যন্ত্রণা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে প্রথম স্ত্রী শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় জানান, তিনি এই চরম প্রতারণা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গণমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁর কী দোষ ছিল, যেখানে তিনি সংসার আর সন্তানদের আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন।
প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই কায়সারুজ্জামান ও তাঁর কলেজের শিক্ষার্থী এনি আক্তারের মধ্যকার বিশেষ সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন চলছিল। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কায়সারুজ্জামান এবং তাঁর পরিবারের লোকজন বারবার ঘটনাটি অস্বীকার করেন এবং মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব সত্য আড়াল করে সেই এনি আক্তারকেই বিয়ে করেন কায়সারুজ্জামান। এই ঘটনার পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক সম্মান ধূলিসাৎ হতে বসেছে উল্লেখ করে প্রথম স্ত্রী বলেন, তাঁদের বড় সন্তান মাকে বারবার প্রশ্ন করছে কেন তাদের কাছে এতদিন এই সত্য লুকিয়ে রাখা হলো। বিয়ের খবর জানাজানির পর থেকে কায়সারুজ্জামান প্রথম স্ত্রীর সাথে সঠিক যোগাযোগ করছেন না এবং ফোন দিলে নানা বাহানায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আজ সমাজের সামনে তাঁর সন্তানরা মুখ দেখাতে পারছে না জানিয়ে তিনি কায়সারুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এবং সন্তানদের অধিকার ও সম্মানের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিরুপায় প্রথম স্ত্রীর দাবি, বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে কায়সারুজ্জামান তাঁর এক বোনের বাসায় অবস্থান করছেন এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। উপায়ান্তর না দেখে তিনি ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। শিক্ষক স্বামীর এই চরম প্রতারণার বিরুদ্ধে চুপ করে থাকবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যাঁরা বলছেন কিছুই হয়নি, তাঁরা সমাজকে বিভ্রান্ত করছেন; তাঁর কাছে সব প্রমাণ আছে এবং তিনি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সন্তানদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন।
এদিকে, একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের কাছ থেকে নিজের প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থীকে এভাবে বিয়ের ঘটনাটি মহতোসিন আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আমতৈল গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এমন ঘটনা শিক্ষকতার মতো একটি পবিত্র পেশার মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে, তাই তাঁরা এই বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।




















