রাজনগরে প্রবল বর্ষণ: পাহাড়ি ঢলে ত্রিশ গ্রামে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

  • প্রকাশের সময় : ২১/০৮/২০২৪ ০৫:১২:২৬ AM

ছবি-প্রতিবেদক

Share
50

মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রবল বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং মনু, ধলই, লাঘাটা নদীর উপচেপড়া পানিতে ৩০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, মনু ও ধলই নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মনু নদীর রাজনগর এলাকায় তিনটি এবং ধলই নদীর কুলাউড়া, কমলগঞ্জের এলাকায় পাঁচটি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। দুর্গত এলাকার বাড়িঘর, কৃষিক্ষেত, মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্গত এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত তিন দিন যাবৎ প্রবল বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও মনু, ধলই ও লাঘাটা নদীর উপচে পড়া পানিতে উপজেলার ৩০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। মনু নদীর পানি বাড়তে থাকায় দুর্গত এলাকার লোকজন ভারী বন্যার আশঙ্কা করছেন।

মনু নদী রাজনগরের উজিরপুর, কান্দিরকুল ও একামধু এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ধলই নদী কুলাউড়া, কমলগঞ্জের পাঁচটি স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেয়েছে রাজনগরের লাঘাটা নদীর। মনু নদীর চাদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ও মাতারকাপন স্লুইস গেইট পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও তিনটি নদীর উপচেপড়া পানিতে ইতোমধ্যে উপজেলার কামারচাক ও টেংরা, ইউনিয়নের বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্লাবিত এলাকাগুলো হচ্ছে, কামারচাক ইউনিয়নের ইসলামপুর, নওয়াগাঁও, শ্যামেরকোনা, গোবিন্দপুর, জালালপুর, খাসপ্রেমনগর, প্রেমনগর, মিঠিপুর, দস্তিদারেরচক, পঞ্চানন্দপুর, হাটি করাইয়া, দক্ষিণ করাইয়া, তেঘরি, চানখার হাবেলি, পালপুর, মাহতাবপুর, মৌলভীরচক, কালাইকোনা, কামারচাক, জাঙ্গালী, আদমপুর এবং টেংরা ইউনিয়নের টুপিরমহল, উজিরপুর, একামধূ, কান্দিরকুল, কোনাগাঁও, আদিনাবাদ। এর মধ্যে প্লাবিত এসব এলাকায় খাবার পানি, গোখাদ্যসহ নানান সমস্যা দেখা দিয়েছে।

চধঁংব

টহসঁঃব

খড়ধফবফ: ৭.২৯%

জবসধরহরহম ঞরসব -৯:৫৮

ঈষড়ংব চষধুবৎ

এদিকে, অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত এলাকার লোকজন আত্মীয়-স্বজন ও পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই আবার গবাদিপশু ও কষ্টার্জিত সম্পদের মায়ায় কষ্টকরে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনটি নদীর পানি অব্যাহত বৃদ্ধির কারণে বিগত ২০২২-এর মতো দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন অসহায় লোকজন।

এদিকে রাজনগরের উত্তরাঞ্চলে বহমান কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাজনগরের উত্তরভাগ ও ফতেহপুর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ৫০টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ আশঙ্কায় রয়েছেন। এ অবস্থায় রাজনগরে জন-প্রতিনিধি না থাকায় দুর্গত মানুষজন আরো অসহায় হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

কামারচাক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিম এ প্রতিবেদককে জানান, গত তিন দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, মনু নদীর পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় কামারচাক ইউনিয়নসহ উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের শতশত বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ তা প্রতিরোধে যথা সময়ে ব্যবস্থা নেয় না। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাদের।

জেলার শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান জানান, ‘গত ১৯ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে ২০ আগস্ট সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ১৫৪ মিঃ মিঃ এবং ২০ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে ২১ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৬৭ মিঃমিঃ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, ‘মনু নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধমূলক কাজ চলমান রয়েছে। আপাতত বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে উভয় নদীর বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন মেরামত করা হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন প্রতিরোধক জিও বেগ ও সিনথেটিক বেগ হস্তান্তর করা হয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, ‘রাজনগরে বিভিন্ন বন্যা দুর্গত এলাকায় গিয়ে দুর্গতদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি এবং তাদের সহযোগিতার ব্যাপারে কাজ করছি। এই মুহূর্তে দুর্গতদের উদ্ধারে পর্যাপ্ত নৌকা প্রয়োজন।

পাশের এলাকার মানুষকে নৌকা দিয়ে দুর্গত এলাকার মানুষকে সহযোগিতারও আহ্বান জানান তিনি।


সিলেট প্রেস / ২১ আগস্ট ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৪-০৮-২১ ০৫:১২:২৬