শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলে বাড়ছে পাখির ভিড়

  • প্রকাশের সময় : ০৭/০১/২০২৪ ০১:২৪:২৬ AM

শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে অতিথি পাখির মেলা

Share
42

অতিথি পাখির অভয়াশ্রম শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে শুরু হয়েছে তাদের আনাগোনা। পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর ঝাঁক ধরে বিলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে উড়ে যাওয়ার ব্যস্ততায় প্রাণবন্ত বাইক্কা বিলের প্রকৃতি। এরই মধ্যে অতিথি পাখির উপস্থিতি দেখতে ভিড় করছেন পর্যটক। বিলের সৌন্দর্য রক্ষায় বাইক্কা বিল প্রকল্প চালু এবং বিল খনন করাসহ এর আয়তন বাড়ানোর দাবি তুলেছেন তাদের অনেকেই।


বাইক্কা বিলে পাখি ও মৎস্য শিকার নিষিদ্ধ। শীতের শুরুতেই বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখির অভয়াশ্রম এ বিলে জমে পাখির মেলা। দেশি-বিদেশি পর্যটক ও পাখিপ্রেমী দর্শনার্থীর সুবিধার্থে এ বিলে নির্মাণ করা হয়েছে ৩১ ফুট উচ্চতার পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।


২০০৩ সালে চাপড়া, মাগুড়া ও যাদুরিয়া বিলের ১০০ একর জলাভূমিকে বাইক্কা বিল নামে মাছের স্থায়ী অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমটির জীববৈচিত্র্য ফিরে পাওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শুরুতে সরকার বড়গাংগিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে। এরপর ধীরে ধীরে বিলটি মাছের পাশাপাশি পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে ওঠে।


বাইক্কা বিলে পাখি পর্যবেক্ষক, বিল তদারককারী কমিটি ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত বছর ৪১ প্রজাতির শীতের পাখির দেখা মিলেছিল বাইক্কা বিলের জলাভূমিতে। এসব পাখির মধ্যে পানকৌরি, বেগুনি কালিম, ভুতি হাঁস, পাতিতেলি হাঁস, রাজসরালি, চখাচখি, বালিহাঁস, কানি বক, ডাহুক, ধুপনি বক, রাঙ্গা বক, মাছরাঙা, পালাসী কুড়া ঈগল ও গুটি ঈগলের উপস্থিতি ছিল।


বাইক্কা বিল ওয়াচ টাওয়ার তদারকির দায়িত্বে থাকা আহসান হাবীব ও রাজু আহমদ জানান, গত মৌসুমের মতো এবারও পাখির আগমনে প্রাণবন্ত হতে শুরু করেছে বিলের পরিবেশ। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে পাখির সংখ্যা। কোনো কারণে যেন পাখিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।



বাইক্কা বিল বড়গাংগিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পিয়ার আলী জানান, এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাইক্কা বিলের বন্ধ হওয়া প্রকল্প চালু ও পাখির নিরাপদ নিবাসের জন্য বনায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই অতিথি পাখিদের পর্যবেক্ষণ শুরু হবে। বিলে পাখি ও মাছের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এর আয়তন বাড়ানোসহ অগভীর স্থানগুলো খননের ব্যাপারে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।



সিলেট প্রেস / ০৭ জানুয়ারি ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০১-০৭ ০১:২৪:২৬