মনু নদীর ‘হাট বাওয়া’য় মাছ মেলেনি তেমন

  • প্রকাশের সময় : ২৮/১২/২০২৩ ০৭:০৭:৩৫ AM

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মনু নদীতে বুধবার মাছ ধরার উৎসবে মেতে ছিল স্থানীয় লোকজন।

Share
69

ভারত থেকে নেমে আসা মনু নদী বয়ে গেছে মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ওপর দিয়ে। প্রতিবছর পাহাড়ি এ খরস্রোতা নদীর পানি যখন কমে যায়, তখন শীতকালে কয়েক দিনব্যাপী মাছ ধরার উৎসবে মাতে মানুষ। স্থানীয়ভাবে এ উৎসবের পরিচিতি ‘হাট বাওয়া’ হিসেবে। গতকাল বুধবার কুলাউড়ায় মনু নদীর কয়েকটি অংশে শেষ হয়েছে মাছ ধরার এ উৎসব।


 শৌখিন ও পেশাদার শিকারিরা পলো, কুঁচ, ঝাঁকি জাল, টানা জালসহ নানা জাতের ফাঁদ নিয়ে মাছ শিকারে নামে। কেউ চাপে নৌকায়, কেউবা কলাগাছের ভেলায়। অনেকেই নদীর চর বা শুকনো জায়গা থেকে ছোড়ে ঝাঁকি জাল। এ সময় দুই তীরে মাছ ধরতে ও কিনতে প্রচুর মানুষ ভিড় করে। গোটা এলাকা রূপ নেয় উৎসবে।


সোমবার ছিল উৎসবের প্রথম দিন। এদিন হাজীপুরের মনু রেল সেতু, কটারকোনা, মাহতাবপুর, টিলাগাঁওয়ের লালবাগ ও গাজীপুর এলাকা থেকে মাছ শিকার শুরু হয়। বুধবার সকালে মাছ ধরা শুরু হয় পৃথিমপাশার ছৈদল বাজার ঢহর (নদীর গভীর অংশ), সুজাপুর, কলিরকোনায়। 


শিকারিরা দেশীয় প্রজাতির রুই, বাউশ, আইড়, পাবদা, বাচা, লাছোসহ নানা প্রকারের ছোট মাছ ধরে। বুধবার প্রথমবারেই মনির মিয়ার জালে ধরা পড়ে প্রায় ৩ কেজি ওজনের একটি আইড় মাছ। একই সঙ্গে দুই কেজি ওজনের কালিবাউশসহ নানা প্রজাতির মাছ ওঠে। এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মনির মিয়া। 


শৌখিন শিকারি আছকর মিয়া, সিপার মিয়া, রেজান মিয়া, আজিম উদ্দিনের ভাষ্য, অনেকের জালেই ছোট-বড় মাছ ধরা পড়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মাছ কম। এ জন্য উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করা হয়। 


পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মনির মিয়া বলেন, বাপ-চাচাদের সময় থেকে ‘হাট বাওয়া’ উৎসব চলে আসছে। প্রতি বছর দুই-তিন দিন মনু নদীতে চলে মাছ শিকার। এতে অংশ নেওয়া মানুষের ২০ শতাংশ পেশাদার। ৮০ শতাংশ শৌখিন শিকারি। নদীর উজানে ভারতের অংশে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করে অনেকে। এর প্রভাবে মাছের বংশবিস্তার কমছে বলে মনে করেন তিনি।


সিলেট প্রেস / ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-১২-২৮ ০৭:০৭:৩৫