কমলগঞ্জে নিরাপত্তা ঢিলেঢালা সংকটে বন-টিলা

  • প্রকাশের সময় : ২৬/১২/২০২৩ ০৪:০৮:০৭ AM

কমলগঞ্জের কালাছড়া বনের গাছ কেটে ফেলে রেখেছে চোর চক্রের সদস্যরা

Share
58

প্রতিনিয়ত মূল্যবান গাছপালা সাবাড় হওয়ায় উজাড় হচ্ছে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পার্শ্ববর্তী কালাছড়া বনবিট। বনের রক্ষণাবেক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


এদিকে বন বিভাগ বলছে, জনবল সংকটের কারণে গাছ চুরি থামানো যাচ্ছে না। বিলীন হচ্ছে বনের পাহাড় ও টিলা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় স্থানীয়রাই বনের বিভিন্ন অংশ ও টিলা দখল করে গড়ে তুলছে অবৈধ লেবু ও ফলের বাগান। গাছ চুরি চক্রের কবলে পড়ে সবচেয়ে বেশি উজাড় হচ্ছে বনের আগর গাছ ও বাফারজোন বাগানের গাছগাছালি। এতে করে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার জীববৈচিত্র্য।


কমলগঞ্জের কালাছড়া বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছের অধিকাংশই পুরোনো। কয়েক বছরে এ বনের ঘনত্ব এবং গভীরতা অনেকটাই কমে গেছে গাছ চুরি ও পাচারের কারণে। চলমান পরিস্থিতিতে ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে এ বনের জীববৈচিত্র্য। লাউয়াছড়া-সংলগ্ন কালাছড়া বনের টিলাভূমি এখানকার বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। কালাছড়া বন উজাড় হওয়ায় সেই বিচরণক্ষেত্র সীমিত হয়ে আসছে। সেই সঙ্গে প্রাণীর অভয়াশ্রম ও খাদ্য সংকট তীব্র হচ্ছে।


গত ১৫ ডিসেম্বর এ বন থেকে বেশ কয়েকটি আগর গাছ কেটে নিয়ে যায় চোর চক্রের সদস্যরা। বনের ভেতরেই গাছগুলো কেটে টুকরো করে পরে বস্তায় ভরে সেগুলো অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে। পরে অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। একইভাবে ২১ ডিসেম্বর রাতেও বনের ভেতর থেকে মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার চেষ্টাকালে বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালান। গাছ আটক করা হলেও চক্রের সদস্যদের নাগাল পাওয়া যায়নি। বিচ্ছিন্ন এমন দু-একটি ঘটনা বন বিভাগের বরাতে জানা গেলেও স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এই চক্রের সদস্যরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় প্রতিবাদের সাহস করেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয়রা জানান, লাউয়াছড়া উদ্যানের পার্শ্ববর্তী কালাছড়া বনের গাছ কেটে ফেলায় এটি উজাড় হওয়ার পথে। এ ছাড়া বনের টিলা কেটে নেওয়ায় নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। অনেক সময় দাবানলের নামে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয় বনের গাছ। পরে সুযোগ বুঝে সেসব স্থান বেদখলও করা হয়।

এর পাশাপাশি মাগুরছড়া গ্যাস কূপ দুর্ঘটনা, রেল ও সড়কপথ, অপরিকল্পিতভাবে লেবু ও আনারস বাগান করা, ভূমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ, পর্যটন কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ, নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি দর্শনার্থীর আগমন, প্রাকৃতিক টিলা নষ্ট করে হোটেল ও কটেজের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করার কারণেও ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে এ বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য। 


কমলগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা শাহাব উদ্দীন জানান, চোখের সামনে কালাছড়া বন ও এখানকার প্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল বিলুপ্ত হচ্ছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই বন একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। সিলেট অঞ্চলে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে সেক্ষেত্রে এসব বনাঞ্চল ও এর টিলাভূমি রক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, সম্প্রতি গাছ চুরি কিছুটা কমেছে। বনের ভারসাম্য রক্ষায় করণীয় নিয়ে কাজ করছে বন বিভাগ। লোকবল সংকটের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বেগ পেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে



সিলেট প্রেস / ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-১২-২৬ ০৪:০৮:০৭