কমলগঞ্জে কালের সাক্ষী শমশেরনগর ডাকবাংলো সংরক্ষণের দাবি

  • প্রকাশের সময় : ২৩/১২/২০২৩ ০৫:৩১:২৭ AM

ছবি- সংগৃহীত

Share
37

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের টর্চার শেল ছিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ডাকবাংলো। শত শত নিরীহ মানুষের কান্না আর রক্তের ইতিহাস বহন করছে এই ডাকবাংলো। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা ডাকবাংলোটি সংরক্ষণ ও সেখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নতুন প্রজন্ম।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় তৎকালীন কমলগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুরের বাবা আব্দুল গনি আর তাঁর দুই ভাই আব্দুল নুর ও আব্দুল আলীকে ধরে এনে শমশেরনগর ডাকবাংলোয় নির্যাতন করা হয়। পরে শমশেরনগর বিমানবন্দরে নিয়ে তাদের হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা।


এছাড়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপির বাবা আব্দুল বারী ও তাঁর ভাইদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয় এই ডাকবাংলোর টর্চার শেলে নিয়ে। এ ছাড়াও গোকুলনগর গ্রামের বহু মানুষকে ধরে নিয়ে শমশেরনগর ডাকবাংলোয় হত্যা করা হয়।


বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল কুমার দাশ শমশেরনগর ডাকবাংলোর ইতিহাস তুলে ধরে জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে সারাদেশের মধ্যে শমশেরনগরই সর্বপ্রথম পরিকল্পিত সম্মুখ সমরে ১১ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেন মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ধলাই সাব-সেক্টরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের সহযোদ্ধা ও সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমান জানান, এখানে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় টিকতে না পেরে পাকিস্তানি সেনারা ৩ ডিসেম্বর শমশেরনগর ছেড়ে পালায়।


ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য এসব বিষয় আমলে নিয়ে ঐতিহাসিক শমশেরনগর ডাকবাংলোকে ঘিরে একটি স্মৃতিকাগার ও সৌধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।



সিলেট প্রেস / ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩/সমকাল / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-১২-২৩ ০৫:৩১:২৭