শ্রীমঙ্গলে বাইক্কার বিলে চোর-শিকারি আতঙ্ক

  • প্রকাশের সময় : ১৩/১২/২০২৩ ০৩:০৭:৩৭ AM

পাখির চোখে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর-সংলগ্ন সংরক্ষিত মৎস্য সম্পদ অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল

Share
99

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হাইল হাওরের অন্তর্গত বাইক্কা বিলে চলছে মাছ চুরির মহোৎসব। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় পরিচালিত মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে খ্যাত এ জলাশয়টির বয়স ২০ বছরেরও বেশি। এই সময়ের মধ্যে চুরির কারণে সরকার এ পর্যন্ত হারিয়েছে অন্তত কোটি টাকার রাজস্ব।

জানা গেছে, মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলা বাইক্কা বিল থেকে মাছ চুরি করতে একটি চোর চক্র তৎপর। অন্যদিকে বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা মাছ চুরি ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছেন। এ কারণে প্রায়ই মাছ চোরদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য ও প্রহরী। বর্তমানে মাছ চুরির পাশাপাশি বেড়েছে বিলে আসা অতিথি পাখি শিকার। সব মিলিয়ে বাইক্কার বিলের সম্পদ ও পরিবেশ উভয়ই এখন সংকটের মুখে।

অভিযোগ রয়েছে, ১০০ একর জায়গাজুড়ে এই অভয়াশ্রমে বিল ভর্তি মাছ ও পাখি থাকার কথা। তবে বর্তমান চিত্র একেবারে ভিন্ন। স্থানীয়রা জানান, অভয়াশ্রম হিসেবে এই বিলে মাছের অবাধ বিচরণ থাকার কথা। তবে তেমন কিছু চোখে পড়ছে না। মাছ না থাকার কারণে বিলে পাখির উপস্থিতিও কমতে শুরু করেছে। রাতের আঁধারে বিলে চলে মাছ শিকার। সেই সঙ্গে বিলের অন্যান্য জৈবিক উপাত্তও বিনিষ্ট করা হচ্ছে।

বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুরু থেকে সরকার বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। তখন থেকেই সরকার ঘোষিত স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিলের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও কিছু জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  

স্থানীয় মসজিদের ইমাম তৌয়েবুল ইসলাম জানান, বাইক্কা বিল সারাবিশ্বের কাছে পরিচিত। তবে এই বিলে যেভাবে মাছ চুরি ও পাখি শিকার বেড়েছে, তা আশঙ্কাজনক।

বাইক্কা বিলের পাহারাদার তানভির আহমদ জানান, প্রায়ই দেখা যায় ১৫ থেকে ২০ জনের  একটি দল আসে বিলের মাছ চুরি করতে। তাদের সঙ্গে থাকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। বাধা দিতে গেলেই সংঘর্ষ হয়। বেশ কয়েকবার তাদের সঙ্গে পেরে না ওঠায় সংগঠনে খবর দেওয়া হয়।

বাইক্কা বিল বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলু মিয়া জানান, ১০০ একরের এই বিশাল জলাভূমির পাহারায় আছেন মাত্র চারজন প্রহরী। প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়ানো হলে  বিলের সম্পদ রক্ষা করা যাবে।

বাইক্কা বিল বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠন (আরএমও) সভাপতি পিয়ার আলী জানান, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং ইউএসএআইডির সাহায্যপুষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে তাদের সংগঠন। বাইক্কা বিলে মাছের উৎপাদন ও রক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা মৎস্য সিনিয়র অফিসার ফারাজুল কবির জানান, বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের তৎপরতা কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। 

ইউএনও আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন জানান, বাইক্কা বিলে চুরি বন্ধে পাহারাদারের সংখ্যা বাড়ানোর সিন্ধান্ত হয়েছে। এখন বিলে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।


সিলেট প্রেস / ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-১২-১৩ ০৩:০৭:৩৭