লন্ডনের গ্রিন-নেতৃত্বাধীন লুইশাম কাউন্সিল ব্রিটিশ হোম অফিসের অভিবাসন অভিযানে কাউন্সিলের সহযোগিতা সীমিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে কাউন্সিলের বৈঠকে প্রস্তাবটি ভোটে তোলা হবে এবং গ্রিন পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কাউন্সিলের বিভিন্ন বিভাগ থেকে হোম অফিসের অভিবাসন প্রয়োগ (ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট) অভিযানে তথ্য বা প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে এবং যেখানে সম্ভব সেই সহযোগিতা বন্ধ করা হবে। বিশেষ করে কাউন্সিলের সংগ্রহ করা তথ্য অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক (জ্যাক) পোলানস্কি বলেছেন, লন্ডনে এমন একটি "Corridor of Sanctuary" (নিরাপদ আশ্রয়ের করিডোর) গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যেখানে আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী এবং অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানের ভয়ে বসবাস করতে বাধ্য হবেন না।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ হোম অফিস জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও যৌথ অভিযান অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং অবৈধ কর্মসংস্থান শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারের দাবি, এসব অভিযান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
এদিকে, লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর কর্মস্থলভিত্তিক অভিবাসন অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে নেল স্যালন, বার, রেস্তোরাঁ, টেকঅ্যাওয়ে, কার ওয়াশ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালিত অভিযানের সংখ্যা প্রায় ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রেপ্তারও বেড়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় কাউন্সিল সহযোগিতা সীমিত করলেও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা হোম অফিসের হাতেই থাকবে। ফলে লুইশাম কাউন্সিলের এই উদ্যোগ মূলত স্থানীয় প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন হলেও, এটি কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতিকে রাজনৈতিকভাবে নতুন বিতর্কের মুখে ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক


















