ব্রিটিশ শাসন আমলে প্রতিষ্ঠিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাধীন শমশেরনগর রেলস্টেশন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১২৭ বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষের রেলসেবা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছিল স্টেশনটি। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগেনি স্টেশনটিতে।
শতোর্ধ্ব বছর বয়সী পুরাতন শমশেরনগর রেলস্টেশনটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক দিন ধরে অবহেলার শিকার এ রেলস্টেশনে হয়নি উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজ। বর্তমানে সেবার চেয়ে বেশি যাত্রী দুর্ভোগের কারণে পরিণত হয়েছে এটি।
শমশেরনগরের ইতিহাসের অন্যতম রাজসাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী এ স্টেশনটি নতুন করে নির্মাণ করার দাবি উঠেছে একাধিকবার। বিভিন্ন সময় আশ্বাসের কথা শোনা গেলেও স্থানীয়দের সেই দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জানা যায়, ইংল্যান্ডে গঠিত আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ১৮৯৬ সালে কুমিল্লা-আখাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ স্থাপন করে। এ সময় কুমিল্লা-আখাউড়া-শাহবাজপুর লাইনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্পট হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠা করা হয় শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন। বর্তমানে এখানে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ৫টি ট্রেনের স্টপেজ থাকলেও নামমাত্র টিকিট বরাদ্দ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
১২৭ বছরেও সংস্কার বা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই স্টেশনে। এলাকাবাসী ও যাত্রীদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে স্টেশনটি সংস্কার করে সব ট্রেনের স্টপেজ ও টিকিটের সংখ্যা বাড়িয়ে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা হোক।
শমশেরনগর রেলস্টেশন ও এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত স্টেশনের বর্তমান অবস্থা জরাজীর্ণ। স্টেশনটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। যাত্রীদের বসার জন্য নেই ছাউনি। নামমাত্র একটি শৌচাগার আছে, যা ব্যবহারের প্রায় অনুপযুক্ত। রেলস্টেশনের ভেতর ও আশপাশে ময়লা-আবর্জনায় ভরা। পুরাতন দেয়ালে পড়েছে মরিচা। প্ল্যাটফর্মের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে বৃষ্টি হলে। এছাড়া টিকিট কাটা, ট্রেনের সময়সূচি প্রদর্শন, সিগন্যালিং নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি।
এলাকাবাসী ও ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী জমসেদ আলী, মাইদুল হোসেন, জয়নাল আবেদীন, চম্পা রানী নাথসহ অনেকেই জানান, শমশেরনগর রেলস্টেশনের অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। যথাযথভাবে এর দেখভাল করা হয় না বলে এমনটি হয়েছে। স্টেশন যদি নতুন করে সংস্কার করা না হয় তাহলে ভবিষ্যতে আরও জমি বেদখল হয়ে যাবে। এত পুরাতন একটি স্টেশন অথচ এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা হয়নি এখানে। কোনো ভবনও নির্মাণ হয়নি। যাত্রীছাউনির জায়গা অতি সংকীর্ণ। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট মাত্র ৮ থেকে ১০টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে; যা যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।
শমশেরনগরের স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে শমশেরনগর রেলস্টেশনটির আধুনিকায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্টেশন নতুনভাবে নির্মাণ করা হলেও এ স্টেশনটি সেই পুরাতন ধাঁচেই চলছে। এ সময় দ্রুত স্টেশনটির আধুনিকায়নের মাধ্যমে যাত্রীসেবা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, এই স্টেশন থেকে সরকার প্রচুর রাজস্ব আদায় করলেও এখন পর্যন্ত এটিকে আধুনিক করা হয়নি। প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কাজও করেনি সংশ্লিষ্টরা। এই স্টেশন হয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার যাত্রীরা যাতায়াত করেন। শমশেরনগর রেলস্টেশনটি আধুনিক হলে সব ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া যাবে। এতে সেবার মান বাড়বে। একই সঙ্গে এটিকে প্রথম শ্রেণির স্টেশনে রূপান্তর করা হোক।
শমশেরনগর রেলস্টেশনের মাস্টার জামাল উদ্দিন জানান, এ স্টেশনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। এখানে যাত্রীদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বরাদ্দ অনেক কম। প্ল্যাটফর্মের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। শমশেরনগর রেলস্টেশন নতুনভাবে নির্মাণের জন্য ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায় দ্রুতই এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।




















