কুলাউড়ায় সেই কিশোরীর লা শ ৪৫ ঘণ্টা পর ফেরত দিল বিএসএফ

  • প্রকাশের সময় : ০৪/০৯/২০২৪ ০৬:৫১:২১ AM

বিএসএফের গুলিতে নিহত স্কুলছাত্রী স্বর্ণা দাস (১৪) এর লাশ ২৭ ঘন্টা এভাবে পরে থাকে। ছবি-প্রতিবেদক

Share
68

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত স্বর্ণা দাস (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর লাশ ৪৫ ঘণ্টার পর বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কুলাউড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর বিজয় প্রসাদ দেবনাথ বাংলাদেশের পক্ষে লাশ গ্রহণ করেন। এ সময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ভারতীয় পক্ষে বিএসএফ এবং ইরানী থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত রোববার রাত ৯টার দিকে নোম-ম্যান্স ল্যান্ডে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএসএফের গুলিতে ওই স্কুলছাত্রী নিহত হলেও সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত লাশ পড়ে ছিল ঘটনাস্থলে। পরে বিজিবি-বিএসএফ’র কোম্পানি কমান্ডারপর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর লাশ ফেরতের উদ্যোগ নেয়। পরে ভারতীয় পুলিশ লাশের পোস্টমর্টেম শেষে ভারতীয় পুলিশ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে।

নিহত স্বর্ণা জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের কালনীগড় গ্রামের বাসিন্দা পরেন্দ্র দাসের মেয়ে। সে স্থানীয় নিরোদ বিহারী উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো।

বাবা পরেন্দ্র দাস ও মা সঞ্জিতা রানী দাস বলেন, তাদের চার ছেলে-মেয়ে। এক ছেলে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ত্রিপুরায় থাকেন। ছেলেকে দেখতে সঞ্জিতা ছোট মেয়ে স্বর্ণাকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল রাতে স্থানীয় দুই দালালের সহযোগিতায় লালারচক সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় তাদের সঙ্গে চট্টগ্রামের এক দম্পতিও ছিলেন। রাত ৯টার দিকে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছালে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে স্বর্ণা ঘটনাস্থলে মারা যায়। তাদের সঙ্গে থাকা দম্পতিও আহত হন। গুলি থামার পর সঞ্জিতাসহ বাকিরা লালারচক গ্রামের একটি বাড়িতে ঢুকে আশ্রয় নেন। পরে আহত দম্পতিকে চিকিৎসার জন্য সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লালারচকের বাসিন্দা সেনাসদস্য জহিরুল ইসলামদের বাড়িতে আশ্রয় নেন সঞ্জিতারা। জহিরুল ইসলাম সোমবার রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, ‘সীমান্তের কাছেই আমাদের বাড়ি। গতকাল রাতে হঠাৎ তিনজন লোক ডাকাডাকি করতে থাকেন। পরে দেখি দুজন গুলিবিদ্ধ। তারা ঘটনা খুলে বলেন। পরে বিজিবির লালারচক বিওপির দায়িত্বে থাকা লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। গুলিবিদ্ধ দুজনকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাই। সঞ্জিতা সুস্থ ছিলেন। তার কাছ থেকে নাম-ঠিকানা জেনে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করি।’


এ ব্যাপারে বিজিবির শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার লে: কর্নেল মিজানুর রহমান শিকদার জানান, বিজিবি-বিএসএফ’র উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ নিহত কিশোরীর লাশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেরত দেয়।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিনয় ভূষন রায় জানান, সন্ধ্যা ৬টায় ভারতীয় পুলিশ আমাদের কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে। এ সময় দুই দেশের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।


সিলেট প্রেস / ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৪-০৯-০৪ ০৬:৫১:২১