"সিলেটে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার পূর্বাভাস, আগামী সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলেও শঙ্কা"

  • প্রকাশের সময় : ১৭/০৭/২০২৬ ০৮:৫১:৫০ PM

Share
9

টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিলফামারী, কুড়িগ্রাসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র শুক্রবার (১৭ জুলাই) সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানায়, আগামী সপ্তাহে উত্তরের সাতটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এ সময়ে মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হবে। এ কারণে লালমনিরহাট, নীলফামারি, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা পূর্বাভাসে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এই প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্ক সীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির স্থিতিশীল থাকতে পারে।


বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং তৎসংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে।


চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটির বিস্তৃর্ণ জনপদ পানির নিচে ডুবে যায়। প্লাবিত হয় খাগড়াছড়ি জেলাও। এছাড়া প্লাবিত হয় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা। বন্যায় সাতটি জেলার ৫৯ উপজেলা ব্যাপক মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েন ১২ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রায় অর্ধলাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অস্থায়ী বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের বীজতলা এবং শাকসবজির খেত ঢলের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার পুকুর এবং মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় শত শত মৎস্য চাষি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বহু গ্রামীণ সড়ক, বেইলি ব্রিজ ও কালভার্ট ধসে গেছে।


সিলেট প্রেস / নিউজ ডেস্ক


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৭ ২০:৫১:৫০