নারায়ণগঞ্জের মদনপুর কেওডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে ঘুষ, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতা হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ না করা, নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা এবং দালালচক্রের মাধ্যমে অনিয়ম পরিচালনার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা যেমন নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায় ও জমির পর্চা (খসড়া) উত্তোলনের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নামজারির জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
নির্ধারিত অর্থ না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে।সরেজমিন অনুসন্ধানে সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লী এলাকার ৩ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর ভবনে হাবিবুর রহমানের তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া যায়। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য প্রায় তিন থেকে চার কোটি টাকা। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা অধিকাংশ মানুষকে নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সেবা পাওয়ার পরিবর্তে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে বাধ্য করা হয়। নামজারির তদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন কাজে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয় এবং ওই অর্থ বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেওয়ার কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া, হাবিবুর রহমান যেসব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতিটি কর্মস্থলে একটি শক্তিশালী দালালচক্র গড়ে তোলেন এবং তাদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন।
কিছু সংবাদকর্মীর অভিযোগ, তার ঘুষ লেনদেন ও সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে তিনি অসহযোগিতা করেন এবং অশোভন আচরণ করেন। এমনকি দালালচক্রের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভূমি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।”নিজের সম্পদের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তার বাবা একজন ব্যাংকার ছিলেন এবং পরিবার আগে থেকেই আর্থিকভাবে সচ্ছল। পাশাপাশি তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাও শিল্পপতি।
তিনি বলেন, “আমার সম্পদের সব তথ্য আয়কর নথিতে উল্লেখ আছে।” তবে সিদ্ধিরগঞ্জে কোটি টাকার ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান তিনি।এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।



















