ডেঙ্গুমুক্ত নগরী গড়তে আগাম প্রস্তুতিতে সিসিক

  • প্রকাশের সময় : ০৯/০৬/২০২৬ ০৭:৫৫:৩৯ PM

Share
2

সিলেটকে ডেঙ্গুমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর আগেই চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবার সকালে সিসিকের উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে নগরভবন প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালিটি বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার নগরভবনে এসে শেষ হয়।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে।

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতেও সিলেটে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সবাই সচেতন থাকলে এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এবারও নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

সিসিক প্রশাসক জানান, এখন পর্যন্ত সিলেট নগরীতে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি মসজিদের জুমার খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হবে।

মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী মাস থেকে প্রতিটি বাসাবাড়িতে গিয়ে এডিস মশার লার্ভা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে এর উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা হবে।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানান, নগরবাসী বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বরাবরই সহযোগিতা করে আসছেন। তাই প্রাথমিকভাবে কোথাও এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি বাড়িতে লার্ভা নিধনের ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হবে। কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলে তা স্প্রে করে ধ্বংস করা হবে। নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, আগের বছরের মতো এবারও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। হাসপাতালগুলোতে সিসিকের পৃথক সার্ভিল্যান্স টিম কাজ করবে। কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে কুইক রেসপন্স টিম তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির বাসা এবং আশপাশের অন্তত ২০টি বাড়িতে অনুসন্ধান চালাবে। সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে তা ধ্বংস করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নগরবাসীর সচেতনতা এবং সিটি কর্পোরেশনের গৃহীত কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে অতীতের মতো এ বছরও সিলেটকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

সচেতনতামূলক র‌্যালিতে সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীনসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-০৯ ১৯:৫৫:৩৯